দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর বাবার সঙ্গে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় জাইমা ছিলেন অল্প বয়সী।
তবে দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি আজও তার মনে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে—দেশে ফেরার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সেসব স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জাইমা রহমান লেখেন, পরিবারের অভিভাবক হিসেবে দাদির মমতা ও যত্ন তার জীবনের অন্যতম প্রিয় স্মৃতি। তিনি স্মরণ করেন, স্কুলজীবনে ফুটবল টুর্নামেন্ট জিতে মেডেল পাওয়ার পর দাদির কাছে গিয়ে সেই গল্প শোনানোর মুহূর্তটি।
প্রধানমন্ত্রী হয়েও দাদি কীভাবে মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনেছিলেন এবং গর্বের সঙ্গে অন্যদের কাছে সেই গল্প বলতেন—সে অভিজ্ঞতা তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
জাইমা রহমান বলেন, লাখো মানুষের কাছে দাদি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু তাদের কাছে তিনি ছিলেন পরিবারের ‘দাদু’। ছোট ছোট মুহূর্তে পাশে থাকা, সাহস জোগানো আর মন দিয়ে শোনার মধ্য দিয়েই নেতৃত্বের প্রথম পাঠ তিনি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন জাইমা। তার ভাষায়, নম্রতা, আন্তরিকতা ও মনোযোগী শ্রবণ—এই গুণগুলোই প্রকৃত নেতৃত্বের ভিত্তি।
প্রবাসে কাটানো সতেরো বছর তার জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে জাইমা রহমান বলেন, বিদেশে থেকেও তিনি কখনো নিজের শিকড় ভুলে যাননি।
লন্ডনের দিনগুলো তাকে বাস্তববাদী ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন করেছে, তবে হৃদয়-মন সবসময় বাংলাদেশেই ছিল। আইন পেশায় কাজ করতে গিয়ে মানুষের গল্প, ন্যায়বিচারের লড়াই এবং বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তাকে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে বলেও তিনি লেখেন।
নিজের প্রয়াত দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে জাইমা রহমান লেখেন, তাকে কখনো না দেখলেও সততা ও দেশপ্রেমের আদর্শ তিনি শুনে এসেছেন।
সেই আদর্শই তার পরিবার বহন করে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি নেপথ্যে থেকে যতটুকু পেরেছেন ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে জাইমা রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরা তার জন্য আবেগ ও অনুভূতির এক বিশেষ সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে দাদির পাশে থাকতে, বাবাকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কাজ করতে চান তিনি।
মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, নিজের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চান বলেও জানান জাইমা রহমান।




