ঢাকা | রবিবার
১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে নেতার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় দেশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। এ খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারেক রহমান দেশে ফিরছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেবেন।

নির্বাচনে নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচি

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফিরে তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে দলের ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির পক্ষে জনমত গড়ে তুলবেন। তিনি জনগণকে এই কর্মসূচির পক্ষে গণরায় দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। দলটির দাবি, এই সংস্কার প্রস্তাবের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার পথ সুগম হবে।

মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে রাজনৈতিক অবস্থান

বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান রোধ করাই তাদের অন্যতম রাজনৈতিক লক্ষ্য। দলটির নেতারা মনে করেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসররা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে তারা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে জনসমাগমের প্রস্তুতি

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতে পারে। সারা দেশ থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই উপলক্ষে দেশে আসছেন

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময় ও মামলার প্রসঙ্গ

দলীয় বক্তব্যে বলা হয়, ওয়ান-ইলেভেনের সময় তারেক রহমানকে আটক করা হয় এবং তিনি নির্যাতনের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে যেতে বাধ্য করা হয়। বিএনপির অভিযোগ, ওই সময় দায়ের করা মামলাগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো প্রত্যাহার না করে আরও নতুন মামলায় তাকে জড়ানো হয়।

দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার ও শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গত দেড় দশকে সংঘটিত বড় দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের তথ্য তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের কথাও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি

৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংস্কার ও বৈষম্য হ্রাসের পরিকল্পনা

বিএনপির প্রস্তাবে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা যুক্ত থাকবেন। উদ্দেশ্য হবে মুক্তবাজার অর্থনীতির সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমানো। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

সংখ্যালঘু, নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, শিশুশ্রম বন্ধ এবং পাহাড়ি ও অনগ্রসর অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনাও এতে রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও স্থানীয় সরকার

বিএনপি জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। ক্ষমতায় এলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানো এবং বিকেন্দ্রীকরণ জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রত্যাশা

বিএনপির দাবি, রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার প্রণেতা তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ কারণেই তাঁর দেশে ফেরা ঘিরে দলীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি

সংবাদটি শেয়ার করুন