ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তবে কি থমকে গেল নবম পে স্কেল?

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে সরকার। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে চলতি মেয়াদেই নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ইঙ্গিত মিললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আশার আলো ক্রমেই ম্লান হতে থাকে।

কিছুদিন আগে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার। তার এই বক্তব্যের পরপরই কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় কর্মচারী নেতারা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিশনের সুপারিশ জমা দেয়ার আল্টিমেটাম দেন। এখন পর্যন্ত কমিশন নবম পে স্কেলের সুপারিশ জমা দেয়নি। যদিও চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়নি।

সর্বশেষ, অনলাইনে পাওয়া মতামত ও কর্মচারীদের লিখিত প্রস্তাব পর্যালোচনা করে গত ১৭ ডিসেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় খসড়া সুপারিশ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। একাধিক বিষয়ে সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে আবারও বৈঠক করার কথা জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেয়ার আগে অন্তত আরও তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফলে জানুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে সুপারিশ জমা দেয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। সে হিসেবে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পে স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশ জমা পড়লে তা যাচাই-বাছাই ও সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে না। ফলে বর্তমান সরকারের আমলেই নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ উপদেষ্টা এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। এতে বহু বিষয় জড়িত থাকে, যা স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তবে চলতি সরকারের মেয়াদে পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কি না এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নতুন পে স্কেল কার্যকর করা সহজ হবে না। বর্তমান সরকারের মতো আর্থিক সংকটের মুখে পড়বে পরবর্তী সরকারও। অর্থনীতি দ্রুত চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় আগামী অর্থবছরেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন