ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: এক আসনের বিপরীতে ৭৫ পরীক্ষার্থী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। দুই ধাপে আবেদন করা সব প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেশের সব জেলায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তবে পার্বত্য তিন জেলাখাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান এর বাইরে থাকবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের জন্য আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন প্রার্থী।

দুই ধাপ মিলিয়ে মোট শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে মোট আবেদনকারী ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। হিসাব অনুযায়ী, একটি পদের জন্য গড়ে প্রতিযোগিতা করবেন প্রায় ৭৫ জন পরীক্ষার্থী।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ সকাল ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রের সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এরপর আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রের প্রবেশপথে নারী ও পুরুষ প্রার্থীদের আলাদাভাবে তল্লাশি করা হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। ব্লুটুথ বা গোপন ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্ত করতে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান খোলা রাখতে হবে এবং সন্দেহ হলে টর্চলাইট দিয়ে পরীক্ষা করা হবে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্টওয়াচ, যেকোনো ধরনের ঘড়ি, পার্স, ভ্যানিটি ব্যাগ কিংবা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী সঙ্গে পাওয়া গেলে প্রার্থীকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার্থীদের একটি ওএমআর শিট সরবরাহ করা হবে, যা শুধু কালো বলপয়েন্ট কলম দিয়ে পূরণ করতে হবে। পেনসিল ব্যবহার করলে উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র উভয়ই পরিদর্শকের কাছে জমা দিতে হবে; প্রশ্নপত্র বাইরে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং ভুয়া পরীক্ষার্থী বা অসদুপায় অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন