ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বদনজর: ক্ষতি ও সতর্কতার শিক্ষা

মানুষের জীবনে বদনজর বা কুদৃষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি কেবল কুসংস্কার নয়, বাস্তবেই বদনজরের কারণে নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

পবিত্র কোরআনে ইয়াকুব আ.-এর উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি মিসরে প্রবেশের আগে তাঁর সন্তানদের একই দরজা দিয়ে প্রবেশ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাফসিরবিদরা বলেন, তিনি চাইছিলেন তার সুদর্শন সন্তানদের মানুষের বদনজর থেকে রক্ষা করতে।

মহানবী (সা.)-এর হাদিস থেকেও বোঝা যায়, বদনজর সত্য এবং এর দ্বারা ক্ষতি হতে পারে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করুক, কারণ বদনজর বাস্তব। তাই নিজের এবং সন্তানদের ওপর বদনজর না পড়ার জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।

সাধারণ সতর্কতার মধ্যে রয়েছে সম্পদ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গোপন রাখা, অহেতুক প্রদর্শন বর্জন করা, এবং অন্যের সম্পদ বা সৌন্দর্য দেখলে ‘মাশা আল্লাহ’ বা ‘বারাকাল্লাহ’ বলার অভ্যাস করা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সাহল ইবনে হানিফকে যিনি অতিমাত্রায় সুন্দর ছিলেন, তাকে বদনজর থেকে রক্ষা করতে পানি দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছিল।

সুতরাং, প্রত্যেকের উচিত নিজের ওপর বা অন্যের ওপর বদনজর না পড়ার বিষয়টি মাথায় রাখা। সন্তানদের ওপর বদনজরের সম্ভাবনা থাকলে প্রয়োজনে ঝাড়ফুঁক করানো উচিত। যেমন উবাইদ ইবনে রিফাআ আজ-জুরাকি (রহ.) থেকে বর্ণিত, আসমা বিনতু উমাইস (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি তাঁর সন্তানদের ঝাড়ফুঁক করতে পারবে কি? তখন রাসুল (সা.) অনুমোদন দেন।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আমাদের, আমাদের সন্তান-সন্ততি এবং সম্পদকে সব ধরনের ক্ষতি ও বিপদ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন