রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দিনভর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও উত্তেজনার পর নতিস্বীকার করেছেন আওয়ামীপন্থি ছয়টি অনুষদের ডিন। দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে রোববার রাতে তারা উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোববার সকালে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ একদল শিক্ষার্থী আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের চেম্বারে যান। শিক্ষকদের দপ্তরে না পেয়ে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান এবং আইন অনুষদের ডিনদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এরপর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। একপর্যায়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অচল করে দেওয়া হয়।
আন্দোলন চলাকালে সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের একটি তালিকা করা হচ্ছে। তিনি ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছেও এমন তালিকা আহ্বান করেন এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই দপ্তরগুলো তালাবদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকেলে এবং রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুই দফা বৈঠক হয়। চূড়ান্ত বৈঠকে ডিনরা তাদের দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা জানান। অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, “ডিনরা উপাচার্যের কাছে তাদের অপারগতা প্রকাশ করেছেন। উপাচার্য এই আবেদন গ্রহণ করলেই তাদের দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটবে।”
২০২৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি ‘হলুদ প্যানেল’ থেকে নির্বাচিত এই ডিনদের নির্ধারিত মেয়াদ গত বুধবার শেষ হয়েছিল। তবে উপাচার্য গত ১১ ডিসেম্বর এক আদেশে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাদের স্বপদে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে এই শিক্ষকদের ভূমিকার প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা তাদের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন।
দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করা ডিনরা হলেন- আইন অনুষদের আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের ড. নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এস. এম. একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এ. এইচ. এম. সেলিম রেজা।




