ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও অবদান সংরক্ষণে একটি একাডেমিক চেয়ার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর জীবনদর্শন, রাজনৈতিক চিন্তাধারা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস গবেষণা ও চর্চার লক্ষ্যে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চেয়ার’ স্থাপনের সিদ্ধান্তের পথে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ১৯তম অনুষদীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই চেয়ার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিষয়টি পরবর্তী সময়ে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা শেষে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন ও জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইবি ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গফুর গাজী, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শিদ রতন ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এম এ কাউসার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জাতির ইতিহাসে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন, যেখানে ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্য ছিল।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, অতীতে রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে তাঁর নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো চেয়ার প্রতিষ্ঠা হয়নি। বরং অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে চেয়ার স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যথাযথ সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পক্ষ থেকে চেয়ারটি স্থাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও সভায় উপস্থিত শিক্ষক ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলরা একমত পোষণ করে বলেন, চেয়ারটি কোনো নির্দিষ্ট বিভাগের অধীনে না রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আওতায় প্রতিষ্ঠা করা উচিত। পরে সর্বসম্মতিক্রমে সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চেয়ারটি অনুমোদিত হলে একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক ও গবেষককে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চেয়ার’ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই পদে অধিষ্ঠিত অধ্যাপক জিয়াউর রহমানের জীবন, দর্শন, রাষ্ট্রচিন্তা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে গবেষণা, সেমিনার আয়োজন ও গ্রন্থ প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, তেমনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। দীর্ঘদিন তাঁর প্রতি যে অবহেলা ও বৈষম্য ছিল, তা দূর করার সময় এখন এসেছে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন বাস্তবতায় তাঁর প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি খুব দ্রুতই এই চেয়ার বাস্তবায়ন হবে।”




