ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিকড়ের টানে চুয়াডাঙ্গায় ইত্যাদি, উৎসবমুখর হাজারদুয়ারি প্রাঙ্গণ

বাংলাদেশের গণমানুষের প্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ আবারও শিকড়ের টানে ছুটে গেছে গ্রামবাংলার বুকে। নব্বই দশক থেকে স্টুডিওর গণ্ডি পেরিয়ে দেশের নানা প্রান্তে আয়োজনের যে ধারাবাহিকতা, তারই অংশ হিসেবে এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ভরপুর চুয়াডাঙ্গা জেলায়। জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় অবস্থিত ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী ‘নাটুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ প্রাঙ্গণে নির্মিত হয় ইত্যাদির বর্ণিল মঞ্চ, যা স্থানীয়ভাবে হাজারদুয়ারি নামে পরিচিত।

ইত্যাদির ধারণকে কেন্দ্র করে পুরো চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বসে জমজমাট মেলা, বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। দুপুরের পর থেকেই দর্শকদের ঢল নামে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা বিশেষ আমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলা থেকেও দর্শকরা উপস্থিত হন। শীত উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় ধরে প্রিয় অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তারা।

এবারের ইত্যাদিতে থাকছে দুটি গান। এর মধ্যে একটি গান পরিবেশন করেছেন চুয়াডাঙ্গার কৃতি লোকসংগীত শিল্পী বিউটি এবং ইত্যাদির আবিষ্কার জনপ্রিয় শিল্পী পান্থ কানাই। গানটির কথা লিখেছেন খ্যাতিমান গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এবং সংগৃহীত সুরে সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গার ইতিহাস ও কৃষ্টিকথা তুলে ধরা হয়েছে একটি পরিচিতিমূলক গানের মাধ্যমে। শাহ আলম সনির কথায় গানটির সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। স্থানীয় নৃত্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত এই নৃত্যের কোরিওগ্রাফি করেছেন এস কে জাহিদ। কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব ও তানজিনা রুমা।

দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে চারজনকে নির্বাচিত করা হয়। বরাবরের মতো দর্শকপর্বে ছিল প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও আনন্দঘন মুহূর্ত।

শিকড় সন্ধানী ইত্যাদি প্রতিবারই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, ইতিহাস ও মানবিক গল্প তুলে ধরে। এবারের পর্বেও রয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। পাশাপাশি ‘বন্য প্রাণী ও পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত বেলগাছি গ্রামের পাখিপ্রেমী তরুণ বখতিয়ার হামিদ ও তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে রয়েছে বিশেষ প্রতিবেদন।

এছাড়া জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত কাশিপুর জমিদারবাড়ি এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ঘেরা আটচালা ঘর নিয়েও রয়েছে আলাদা প্রতিবেদন। চুয়াডাঙ্গার হাজার হাজার খেজুর গাছ ও খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছিদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন। বিদেশি প্রতিবেদনে দেখানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের হলিউড বুলেভার্ডে অবস্থিত বিখ্যাত ওয়াক অব ফেইম।

চিঠিপত্র পর্বে উঠে এসেছে চুয়াডাঙ্গার এক ব্যতিক্রমী ছড়াকারের গল্প। পাশাপাশি সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে থাকছে তীক্ষ্ণ ও তির্যক নাট্যাংশ।

এবারের ইত্যাদিতে অংশ নিয়েছেন সোলায়মান খোকা, সুভাশিষ ভৌমিক, জিল্লুর রহমান, আবদুল্লাহ রানা, আমিন আজাদ, কাজী আসাদ, আনোয়ার শাহী, আবু হেনা রনি, বিলু বড়ুয়া, মুকুল সিরাজ, সুর্বণা মজুমদার, রতন খান, আসমা পাঠান রুম্পা, জাহিদ চৌধুরীসহ আরও অনেক জনপ্রিয় শিল্পী। শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ইত্যাদির নিয়মিত শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।

সব মিলিয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক গল্পে সমৃদ্ধ এই বিশেষ পর্বটি প্রচারিত হবে আগামী ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত ৮টায়, বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে। অনুষ্ঠানটির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় রয়েছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন এবং নিয়মিত স্পন্সর হিসেবে রয়েছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

সংবাদটি শেয়ার করুন