ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূমিকম্পে সবচেয়ে ধংস্বাত্নক হবে ঢাকা, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

বড় ভূমিকম্পে ঢাকা শহর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের রাজধানী হওয়ায় এখানে জনসংখ্যা, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম অত্যন্ত ঘন, যা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান

ঢাকা ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। শহরের নিচে একাধিক ত্রুটি রেখা (fault lines) রয়েছে, যা বড় কম্পনের সম্ভাবনা বাড়ায়। বাংলাদেশের ভূমিকম্প ইতিহাসে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে ছোট-বড় কম্পন নিয়মিতভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

মাটি ও পরিবেশগত ঝুঁকি

ঢাকার মাটি তুলনামূলকভাবে নরম ও বালুকাময়, যা ভূমিকম্পের কম্পন দীর্ঘ সময় ধরে প্রচার করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মাটির উপর নির্মিত ভবনগুলো ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে প্রাচীন বিল, খাল এবং নদীর আশপাশের এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ।

জনসংখ্যা ও নগরায়ন

ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘন জনসংখ্যার শহরগুলোর একটি। এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘনভাবে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে বসবাস করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কোনো বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অতি বিপুল হবে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অননুমোদিত গৃহনির্মাণও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক ভবন ভূমিকম্প-সহনীয় ডিজাইনে তৈরি নয়, আর পুরনো ও ভাঙা অবকাঠামো সেতু, স্কুল, হাসপাতাল ও শিল্পকেন্দ্রগুলোও নিরাপদ নয়।

জরুরি সেবা ও প্রস্তুতি

ভূমিকম্পের প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবা এখন পর্যাপ্ত নয়। নগরের রাস্তা, যানবাহন ও জরুরি সেবার সীমাবদ্ধতা ধ্বংসের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রাকৃতিক ঝুঁকি ও সহায়ক বিপর্যয়

ভূমিকম্পের সঙ্গে ভূমিধস, বন্যা, আগুন ও অবকাঠামোর ধ্বংসও যুক্ত হতে পারে। ঢাকার নরম মাটি ও নদী-সংলগ্ন অবস্থান এই ধরনের বিপর্যয়কে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। বিশেষ করে শহরের নিম্নাঞ্চল এবং নদীর তীরবর্তী এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ঢাকার জন্য এখনই জরুরি-স্থায়ী ও ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন নির্মাণ, নগর পরিকল্পনা ও অপরিকল্পিত গৃহনির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবা শক্তিশালী করা, জনসচেতনতা ও দুর্যোগ প্রস্তুতি বৃদ্ধি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকা শহরের মতো ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো বড় ভূমিকম্প ঘটলে মানুষের জীবন ও অর্থনীতির উপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। তাই সরকারি, বেসরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনকে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন