মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারে, ন্যাশনাল প্যারেড গ্রাউন্ডে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে পাইলট অফিসার পদে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ফাইটার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে এই দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন।
১৯৫৭ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান এয়ার ফোর্স একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর স্কুলে ফ্লাইট কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি জেট ফাইটার কনভারশন স্কোয়াড্রনে ফ্লাইট কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি পিএএফ একাডেমিতে স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরে জেট ফাইটার কনভারশন স্কোয়াড্রনে স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ট্রেনিং উইংয়ের অফিসার কমান্ডিং হিসেবে তিনি ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত পিএএফ একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন।
এরপর তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্ল্যানিং বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। একই বছর ঢাকায় অবস্থিত পিএএফ বেইসে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে নিযুক্ত হন।
দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বরেণ্য সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুতে জাতি হারালো একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ও দক্ষ বিমানসেনা নেতাকে।




