ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের বিচার শুরুর দিন পরিবর্তন

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ পিছিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর বিষয়টি পিছিয়ে আগামী মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সকাল ১০টার পর গ্রেফতার থাকা ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পৃথকভাবে যুক্তি উপস্থাপন করে তাদের মক্কেলদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা দায়মুক্তি চেয়ে আবেদন জানান।

আদালতে হাজির সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ এবং বাকি সাতজনের পক্ষে আইনজীবী তাবারক হোসেন। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানিতে অংশ নেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের পক্ষে এম হাসান ইমাম এবং অপর তিনজনের পক্ষে আইনজীবী সুজাদ মিয়া শুনানি করেন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদনের বিরোধিতা করে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরুর আবেদন জানান। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়। সেদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম টিএফআই সেলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন।

আজ হাজির করা ১০ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

এ মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, হারুন অর রশিদ এবং সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম। তাদের হাজিরার জন্য আগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হওয়ায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি রামপুরায় ২৮ জন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলাম ও রাফাত বিন আলমসহ চারজনের পক্ষে আইনজীবীরা আজ শুনানি করবেন বলে জানা গেছে। এ মামলার দুই কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন এবং তাদেরও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন