ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইএসের ডেরায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘হকআই স্ট্রাইক’

সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে আইএসের আস্তানায় একযোগে আকাশ ও স্থলপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। ১৩ ডিসেম্বর পালমিরায় আইএসের চোরাগোপ্তা হামলায় দুই মার্কিন সেনা এবং একজন অনুবাদক নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এই কঠোর পদক্ষেপ নিল। মূলত আমেরিকানদের ওপর আঘাতের মোক্ষম জবাব দিতেই এই ‘রিটেলিয়েশন স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘হকআই স্ট্রাইক’ নামক এই বিশেষ অভিযানটি শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় শুরু হয়। এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং কামানের গোলা ব্যবহার করে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের ৭০টিরও বেশি আইএস ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জর্ডানের বিমানবাহিনীও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

পেন্টাগন এবং মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “এটি কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়, বরং আমাদের সেনাদের ওপর হামলার প্রতিশোধ। যারা আমেরিকানদের ক্ষতি করবে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তাদের খুঁজে বের করে নিশ্চিহ্ন করা হবে।” সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকান বা তাদের মিত্রদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এই নিরলস অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এক বার্তায় বলেন, “হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর প্রতিশোধ নিচ্ছি।” তিনি আরও দাবি করেন যে, আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে সিরিয়ার বর্তমান সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, রাক্কা ও দেইর ইজোরের কাছে আইএসের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। অভিযানে আইএসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাসহ বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। যদিও আইএস এই হামলার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, সিরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক আইএসবিরোধী জোটে যোগ দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে মার্কিন বাহিনী সিরিয়ায় স্থানীয় যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং সরাসরি অপারেশনের মাধ্যমে আইএসবিরোধী লড়াই চালিয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সিরিয়া থেকে আইএসের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিনিদের এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন