ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাস (২৮) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
আজ শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাতজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—তারেক হোসেন, লিমন সরকার, মানিক মিয়া, এরশাদ আলী, নিঝুম উদ্দিন এবং পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেন ও কোয়ালিটি ইনচার্জ মিরাজ হোসেন আকন। অন্যদিকে, জেলা ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন আজমল হাসান সগীর, শাহিন মিয়া ও মো. নাজমুল।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, কারখানার ভেতরে ধর্ম নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর ভুক্তভোগী দিপুকে জোরপূর্বক চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি কারখানার বাইরে ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়েই দিপুকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেয়। তিনি আরও বলেন, “একজনকে হত্যার পর গাছের ডালে বেঁধে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয় এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকার ওই পৈশাচিক ঘটনার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন, যার প্রেক্ষিতেই এই অভিযান ও গ্রেপ্তার শুরু হয়।




