আইএলটি–২০ লিগে বাংলাদেশি পেসারদের দ্বৈরথে শেষ হাসি হাসল মুস্তাফিজুর রহমানের দল দুবাই ক্যাপিটালস। তাসকিন আহমেদের শারজাহ ওয়ারিয়র্সকে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে দুবাই। ব্যাটে–বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই নিজেদের দখলে রাখে ক্যাপিটালস।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শারজাহ ওয়ারিয়র্স। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দুবাই ক্যাপিটালস প্রথম ওভারেই হারায় একটি উইকেট। তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল।
শারজাহর হয়ে বোলিংয়ে প্রথম পরিবর্তন হিসেবে এসে নিজের প্রথম ওভারে ১২ রান খরচ করেন তাসকিন আহমেদ। পাওয়ার প্লের শেষ ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে প্রথম সাফল্যের দেখা পান ডানহাতি এই পেসার। ১৯ বলে ২৮ রান করা ইংলিশ ব্যাটার জর্ডান কক্সকে ফিরিয়ে দেন তিনি।
এরপর সেদিকুল্লাহ আতাল ও লুইস ডি প্লয়ের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৩৩ রানের জুটি। ডি প্লয় ১৮ রান করে ফিরলেও ইনিংসের একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত ফিফটি তুলে নেন আতাল। মাঝপথে রভম্যান পাওয়েল ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।
১৮তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। ৪৮ বলে ৬৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলা আতালকে ফিরিয়ে দেন তিনি। শেষ ওভারেও বোলিংয়ে এসে দুবাই অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ৪০ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের এই পেসার।
শেষ দিকে মোহাম্মদ নবীর ঝড়ো ৩৮ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় দুবাই ক্যাপিটালস।
১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে শারজাহ ওয়ারিয়র্স। দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসে জনসন চার্লসের উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর হায়দার আলীর জোড়া আঘাতে ইনিংস বড় করতে পারেননি টম অ্যাবেল ও টম কোহলার–ক্যাডমোর।
কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও জেমস রিউ। দুজন মিলে ৩৯ রানের জুটি গড়লেও রাজার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২১ রান। এরপর মোহাম্মদ নবী ও ওয়াকার সালামখিলের আঘাতে ম্যাচ পুরোপুরি শারজাহর হাতছাড়া হয়ে যায়।
১৬তম ওভারে বোলিংয়ে এসে আদিল রশিদের উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজ। ওই ওভারে খরচ করেন মাত্র ৫ রান। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ নবীর আঘাতে গুটিয়ে যায় শারজাহর ইনিংস। মাত্র ১১৭ রানে অলআউট হয় শারজাহ ওয়ারিয়র্স।
মুস্তাফিজুর রহমান ২ ওভারে ১৩ রান দিয়ে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ব্যাটে–বলে সমন্বিত পারফরম্যান্সে ৬৩ রানের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুবাই ক্যাপিটালস।




