ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা শরীফ ওসমান হাদী গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেছেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে সারা দেশে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের তীব্রতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণ মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং একই সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
শহীদ হাদীর মৃত্যুতে দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে যে ক্ষোভ ও আবেগ জন্মেছে, তা ন্যায্য এবং বোধগম্য হলেও ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করেছেন, এই ক্ষোভকে কোনো পক্ষ যদি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করে, তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি—এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকে অন্য পথে প্রবাহিত করার চেষ্টার অংশ হতে পারে।
বিবৃতিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং জনগণের কণ্ঠস্বর প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর আঘাত।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যে কোনো ন্যায্য আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হওয়া আবশ্যক, নইলে মূল লক্ষ্য অর্জন ব্যর্থ হতে পারে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, দেশের এই সংকটময় সময়ে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় ঐক্যই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব।
এ সময় ডা. শফিকুর রহমান সকল দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও নাগরিকদের আহ্বান জানান, কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য, সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে।




