ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমি দুঃখিত — সংবাদমাধ্যমে হামলা নিয়ে প্রেসসচিব শফিকুল আলম

দেশের শীর্ষ দুই সংবাদমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর দুঃখ ও লজ্জা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সাবেক সাংবাদিক হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, এমন ঘটনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে শফিকুল আলম জানান, ঘটনার রাতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ভেতরে আটকে পড়া একাধিক সাংবাদিক বারবার তাঁকে ফোন করে সাহায্য চান। আতঙ্কিত ও অসহায় সেই কণ্ঠস্বর এখনো তাঁকে মানসিকভাবে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি লেখেন, সাংবাদিকদের উদ্ধারে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সব মহলে যোগাযোগ করেছেন, দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। তবে বাস্তবতা হলো সময়মতো সেই সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, যা তাঁর জন্য গভীর হতাশা ও যন্ত্রণার।

শফিকুল আলম আরও জানান, গভীর রাতে তিনি নিশ্চিত হন যে দ্য ডেইলি স্টারের ভেতরে আটকে পড়া সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। এরপরই তিনি বিশ্রামে যান। কিন্তু ততক্ষণে দেশের দুটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সহিংস হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে।

নিজেকে ‘লজ্জিত’ উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, এই ক্ষতির জন্য ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। একজন সাবেক সাংবাদিক হিসেবে তাঁর কাছে এই ঘটনা ব্যক্তিগত ব্যর্থতার মতো মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, পারলে লজ্জায় নিজেকে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখতেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উত্তেজিত একদল লোক প্রথমে দৈনিক প্রথম আলো এবং পরে দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলায় সংবাদপত্র দুটির বহু সাংবাদিক ভেতরে আটকা পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের বাধার মুখে পড়েন ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন