ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে নিয়ে হতাশ শশী থারুর

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি চলমান উত্তেজনাকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শশী থারুর জানান, ভারতের সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটি সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরও গঠনমূলক সংলাপ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে এবং যাদের ভারতঘেঁষা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যেভাবে বিদ্বেষমূলক মনোভাব উসকে দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।

কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সুপারিশ ছিল উল্লেখ করে থারুর জানান, সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে দু’টি ভিসা সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। এতে সাধারণ বাংলাদেশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, আগের মতো সহজে ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না, যা ভারতের জন্যও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন করে তুলছে।

শশী থারুরের মতে, ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জন্য অন্যতম বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে অনুধাবন করবে।

পাকিস্তান প্রসঙ্গে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর একটি বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে থারুর বলেন, ‘ভূগোল বদলানো যায় না। আমরা পাশাপাশি থাকতেই বাধ্য। তাই একে অপরের সঙ্গে কাজ করাই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।’

উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে রিকশাযোগে চলার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবকের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত জীবনরক্ষা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। রাজধানীর শাহবাগে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অবরোধ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল শুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী এখনো পলাতক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র দাবি করছে, তারা ভারতে পালিয়ে গেছে, যদিও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী তারা দেশের মধ্যেই অবস্থান করছে। এরই মধ্যে ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন