ঢাকা | সোমবার
২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরবিদায় নিলেন শরিফ ওসমান হাদি

আততায়ীদের গুলিতে আহত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শত চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গতকাল রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ফেসবুক পোস্টে সংগঠনটি জানায়, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।” তাঁর মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক ও ছাত্রসমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

এর আগে ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রসমাজ। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারদৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান

১৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে এক জরুরি কল কনফারেন্সে হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জাফর এবং হাদির ভাই ওমর বিন হাদি অংশ নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখের নাম উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা দুজনই অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ঘাতকদের ধরতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত হাদি হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশ ও র‍্যাব ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।

এদিকে, সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদিকে দেখতে যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। পরে তিনি ফোনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হাদির শারীরিক অবস্থার কথা জানান এবং জানান যে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ অনেকে। শোক জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দীন নাসির এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, “তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন অবিচল সাহসের প্রতীক। তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শুধু রাজপথে নয়, সংস্কৃতি ও বিবেকের ময়দানেও আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।”

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন