সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা। অনলাইনে সংগৃহীত জনমত ও কর্মচারী সংগঠনগুলোর দেওয়া প্রস্তাবনা নিয়ে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ বৈঠক করেছে পে কমিশন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর এদিনও চূড়ান্ত কোনো সুপারিশে পৌঁছাতে পারেনি কমিশন। ফলে নির্বাচনের আগে নতুন স্কেল ঘোষণা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
কমিশনের পরিকল্পনা ও নতুন বৈঠকের সূচি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে প্রস্তাবনাগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি ডিসেম্বর মাসে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এছাড়াও জানুয়ারি মাসের শুরুতে আরেকটি বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সব মিলিয়ে জানুয়ারি মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে সরকারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
অসন্তোষে ফুঁসছেন কর্মচারী নেতারা কমিশনের এমন ধীরগতির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর নেতারা। তাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির সদস্য সচিব জানান, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে সুপারিশ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা তারা মেনে নেবেন না। বিষয়টি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় জরুরি আলোচনায় বসছেন কর্মচারী নেতারা।
বাস্তবায়ন নিয়ে কেন শঙ্কা? বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের মুখপাত্র আব্দুল মালেক এই বিলম্বের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, “আগামী ১২ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। কমিশন যদি ১৫ জানুয়ারির পর রিপোর্ট জমা দেয়, তবে বর্তমান সরকারের পক্ষে তা যাচাই-বাছাই করে গেজেট প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সাধারণত নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম তিন-চার বছরের মধ্যে নতুন পে স্কেল দেয় না। ফলে এখনই সিদ্ধান্ত না হলে কর্মচারীদের দীর্ঘ সময়ের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।”
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ক্ষোভ বাড়ছে সরকারি দপ্তরে দপ্তরে। কর্মচারীদের দাবি হয় ডিসেম্বরেই পে স্কেল ঘোষণা করা হোক, নয়তো রাজপথে বড় ধরনের কর্মসূচির ডাক দেওয়া হতে পারে।




