সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে গাজার নিরাপত্তা দায়িত্ব নেবে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী, যেখানে প্রধানত মুসলিম দেশের সেনারা নিয়োজিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনীর। কারণ, গাজার এই দায়িত্ব পালনকালে যদি কোনো ভুল হয় বা হামাসের যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, তবে পাকিস্তানে তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হবেন।
শুধু মুনীর নয়, যেসব দেশ এই বাহিনীতে সেনা পাঠাবে তাদের সরকার প্রধানরাও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনীর যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। এটি গত ছয় মাসে তার তৃতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
দুই মাস আগে ট্রাম্পের ২০ দফার ভিত্তিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এর একটি ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজায় নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন কাজে নিয়োজিত হবে এবং অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
যেসব দেশ সেনা পাঠাবে, তাদের সরকারের উদ্বেগ রয়েছে যে এই বাহিনী হামাসকে নিরস্ত্র করতে কাজে লাগানো হতে পারে। এতে সেনারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বেন, যা সেনা পাঠানো দেশের সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান জানান, “গাজায় সেনা না পাঠালে ট্রাম্প অসিম মুনীরের ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারেন। পাকিস্তানের জন্য এটি কোনো ছোট বিষয় নয়, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সামরিক সহায়তা বজায় রাখতে চায়।”
মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান যুদ্ধক্ষেত্রে দক্ষ সৈন্য রয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধ করেছে এবং সর্বশেষ সংঘর্ষ ঘটে গত মে মাসে।




