ঢাকা | সোমবার
২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হত্যাচেষ্টার আগে ফয়সাল দেশ ছাড়ার কথা জানায় মা-বাবাকে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলায় পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুর বাবা মো. হুমায়ুন কবিরমা মোসা হাসি বেগম ঢাকার আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেনতারা জানিয়েছেন, তাদের ছেলে ফয়সালের সঙ্গে সম্পর্ক কম ছিল এবং সাধারণত সে অন্য স্থানে থাকতঘটনার দিন ফয়সাল তাদের জানিয়েছিলেন, তিনি বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছেন।

জবানবন্দিতে ফয়সালের মা-বাবা জানান, ১২ ডিসেম্বর সকাল থেকে ফয়সাল কোনো মোবাইল ব্যবহার করেননি। তবে ঘটনার আগের রাতেই হাদির পরবর্তী দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি ধারণা পেয়েছিলেন। ফয়সাল তিনবার বিয়ে করেছেন এবং একজন বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন। তিনি ডেফোডিলে পড়ার সময় থেকেই রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

ফয়সাল হত্যাচেষ্টার দিন শেরেবাংলা নগরের তার বোনের বাসায় যান, যেখানে তার বাবা-মা ও বোন ছিলেন। সেখানে তিনি মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন ও আলামত ধ্বংস করেন এবং পরে সিএনজি নিয়ে বের হন। তার বাবা পুরো প্রক্রিয়া পরিকল্পনা করেছিলেন।

মামলার তদন্তে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ফয়সালের মা-বাবার জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, ফয়সালকে গাড়ি ভাড়া দিয়ে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। একই দিনে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার আব্দুল হান্নানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে হান্নানের রেজিস্ট্রেশনকৃত দুইটি মোটরসাইকেলের নম্বর মেলেনি।

ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু রিমান্ডে রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সাত ও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন