সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি এখনো জীবিত, তবে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২১ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, “ওসমান হাদি ভাইয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন। তবে তার মৃত্যুর যে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে, তা সত্য নয়।” একই সঙ্গে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হলেও তার সুস্থতা নিয়ে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি লেখেন, “ভাই আজীবন একজন ফাইটার মানুষ। ০.১ শতাংশ আশা থাকলেও আমরা আশাবাদী, ভাই ফিরে আসবেন।” সবাইকে হাদির জন্য দোয়া করার অনুরোধও জানান তিনি।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ওসমান হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনার অনুরোধ করেন। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান বুধবার চিকিৎসাধীন ওসমান হাদিকে দেখতে যান এবং পরে ফোনে তার চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা প্রধান উপদেষ্টাকে জানান।
পোস্টে আরও বলা হয়, ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান জানিয়েছেন যে ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এ অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং তার জন্য দোয়া কামনা করেন।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে ওসমান হাদির হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস ও কিডনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছে। বুধবার করা সিটি স্ক্যানে তার মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতা (ইস্কেমিয়া) কিছুটা বেড়েছে বলে জানান চিকিৎসক ডা. আহাদ। মস্তিষ্কে থাকা গুলির অংশ অপসারণে নতুন করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে কি না এবং সে ক্ষেত্রে তাকে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।




