ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইটে কঠোর নিরাপত্তা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন এবং ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে থার্টিফার্স্ট নাইটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। আসন্ন উৎসব দুটি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এ উপলক্ষে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর) ও থার্টিফার্স্ট নাইট (৩১ ডিসেম্বর) ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা বড়দিনকে কেন্দ্র করে পুলিশের গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশংসা করেন এবং পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অন্যান্য বছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আনন্দঘন পরিবেশে বড়দিন উদযাপিত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, বড়দিন একটি সর্বজনীন উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সভায় জানানো হয়, বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে গির্জাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর কিংবা চার্জার লাইট রাখার আহ্বান জানানো হয়।

থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও দেশের অন্যান্য পর্যটন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়। একই সঙ্গে উচ্চশব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো বা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি ও মোটরবাইক চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করা অথবা সংশ্লিষ্ট বিট পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় র‌্যাব মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) এ কে এম শহিদুর রহমান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের সব পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপাররা অনলাইনে সভায় যুক্ত ছিলেন।

সব মিলিয়ে বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে সারাদেশে উৎসবের আনন্দ যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ থাকে—সে লক্ষ্যেই পুলিশ প্রশাসন সমন্বিত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পথে এগোচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন