পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের জন্য এবার জটিল এক দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-এ পাকিস্তানের সেনা পাঠানোর অনুরোধ আসার পর, দেশটির অভ্যন্তরীণ ফিলিস্তিনপন্থী ও ইসরায়েলবিরোধী জনগণের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আসিম মুনিরের আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় হবে গাজায় ‘স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’-এ পাকিস্তানের অংশগ্রহণ। ট্রাম্পের ২০ দফার পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠন করা হবে।
অধিকাংশ দেশ এই বাহিনীতে সেনা পাঠাতে অনিচ্ছুক। কারণ, এতে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এবং নিজ দেশে জনরোষ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ক্ষমতাশালী হওয়ায় আসিম মুনিরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘গাজায় সেনা না পাঠালে ট্রাম্পের ক্ষোভের সম্ভাবনা আছে। পাকিস্তান সরকার তাই তাকে সন্তুষ্ট রাখতে চাইবে।’
পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতা সীমান্ত-সংঘাত থেকে বিদ্রোহ দমন পর্যন্ত বিস্তৃত। আফগানিস্তান ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনে তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকা মনে করেন, সেনাবাহিনীর শক্তি থাকায় মুনিরের ওপর চাপ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার পরিষ্কার করেছেন, শান্তিরক্ষী বাহিনীর অংশ হিসেবে সেনা পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে হামাসকে নিরস্ত্রীক করার দায়িত্ব তাদের নয়। চলতি মাসের শুরুতে আসিম মুনিরকে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেনাবাহিনী ছাড়াও নৌ ও বিমানবাহিনীর নেতৃত্ব তার হাতে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তাকে আজীবন দায়মুক্তি ও ফিল্ড মার্শাল উপাধি দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে আসিম মুনির ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান, মিসর ও কাতারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য গাজায় সেনা পাঠানোর বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, গাজায় বাহিনী মোতায়েনের পর সামান্য বিবাদও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। সাবেক সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো আবদুল বাসিত বলেন, ‘যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, মানুষ মুনিরকে ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ করতে পারে।’




