ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নববিবাহিত নারীদের অধিকাংশই সহিংসতার শিকার: গবেষণা

নববিবাহিত নারীদের মধ্যে দাম্পত্য সহিংসতা এবং অল্প বয়সে বিয়ের প্রবণতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পাঁচজনের মধ্যে চারজন নারী স্বামীর নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ বা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এছাড়া দুই বছরে অর্ধেকের বেশি নারী আর্থিক সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন।

গবেষণার ফলাফলে প্রকাশিত হয়েছে, মানসিক, শারীরিক ও যৌন সহিংসতাও ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আইসিডিডিআরবির সাসাকাওয়া অডিটোরিয়ামে “বাংলাদেশের নির্বাচিত গ্রামীণ ও শহরাঞ্চল নববিবাহিত দম্পতিদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট ও চাহিদা নিরূপণ” শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উন্মুক্ত করা হয়।

এই দুই বছর মেয়াদি গবেষণা “গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা”র অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা, যেখানে গ্রাম ও শহরের বস্তি এলাকায় নববিবাহিত দম্পতিদের বিয়ের পরবর্তী জীবন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকা ও শহরের বস্তি এলাকায় অল্প বয়সে বিয়ে, দ্রুত গর্ভধারণ এবং দাম্পত্য সহিংসতা উদ্বেগের বিষয়। অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্যে গ্রামে ৪৩% এবং শহরের বস্তিতে ৬৫% ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়েছে। বিয়ের প্রথম বছরে প্রায় ৭৩% নারী গর্ভধারণ করেছেন, যার মধ্যে শহরের অনেক নারী সন্তান নেওয়ায় কিছুটা দেরি করতে চেয়েছিলেন। প্রায় অর্ধেক নারী অনিচ্ছাকৃতভাবে গর্ভবতী হয়েছেন।

দাম্পত্য সহিংসতার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পাঁচজনের মধ্যে চারজন নারী স্বামীর নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কথা জানিয়েছেন। দুই বছরে ৫২% নারী আর্থিক সহিংসতা, ২৩% মানসিক সহিংসতা, ১৫% শারীরিক সহিংসতা এবং ১৪% যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। মাত্র ৪% নারী জানিয়েছেন তারা কোনো ধরনের সহিংসতার সম্মুখীন হননি।

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে গ্রামের ৬০% এবং শহরের ৬৬% পড়াশোনা বন্ধ করেছেন। বিয়ের পর বাসস্থান পরিবর্তন, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির চাপ, সামাজিক রীতি এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া আয়মূলক কাজেও একই ধরনের বাধা দেখা গেছে।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেছেন আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ড. ফৌজিয়া আখতার হুদা, সহকারী বিজ্ঞানী তারানা-ই-ফেরদৌস এবং রিসার্চ ইনভেস্টিগেটর সৈয়দ হাসান ইমতিয়াজ। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেছেন আনিসুদ্দিন আহমেদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন ড. শামস এল রেফিন।

আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ড. আহমেদ এহসানূর রহমানের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার, সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী, ওজিএসবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ান এবং ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডা. রোকসানা ইয়াসমিন।

সেমিনারে বক্তারা জানান, দেশে সাড়ে তিন কোটি শিশু রয়েছে এবং ১৮ বছরের আগে অনেক বিয়ে হচ্ছে। ১২৫৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। বাল্যবিবাহের সুফল ও কুফল বোঝালে সচেতনতা বাড়বে, তবে প্রবণতা প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকায় বেশি দেখা যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন