আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁকে আগামী ২১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, মামলায় গুম ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একাধিক ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার পর মরদেহের পেট কেটে নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে বলেশ্বর নদী, সুন্দরবন, শীতলক্ষ্যা-বুড়িগঙ্গাসহ বিভিন্ন নদীতে এবং কখনো সড়কের পাশের ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগপত্র আজ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এককভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার প্রমাণ তদন্ত সংস্থার কাছে রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য ও প্রমাণ সামনে আসছে, যা মামলাকে আরও শক্তিশালী করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম-খুনের সংস্কৃতি শুরু হয় এবং তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা আসত নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর মাধ্যমে। এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জিয়াউল আহসানকে চিহ্নিত করে তাঁর নিষ্ঠুরতা ও হত্যার মাত্রাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। এ কারণেই তাঁকে একক আসামি করে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে আটক করে পুলিশ। পরে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলা দায়ের হয়, যেগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।




