ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকায়–নয়াদিল্লিতে পাল্টাপাল্টি তলব, বাড়ছে বাংলাদেশ–ভারত উত্তেজনা

ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক এক পদক্ষেপ। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে। আকস্মিক এই ডাকে কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

এর দুই দিন আগেই ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছিল ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে উভয় দেশের হাইকমিশনারদের তলব হওয়ায় বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে স্পর্শকাতর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভই মূলত এই তলবের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। বৈঠক শেষে বুধবার বিকেলেই তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন।

এদিকে, বিষয়টির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বক্তব্যও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা ‘সেভেন সিস্টার্স’ আলাদা করে দেওয়ার পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত এক সর্বদলীয় সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারকে সম্মান করে না এবং তাদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা কড়া অবস্থান নেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিচ্ছিন্ন করার হুমকি অব্যাহত থাকলে দিল্লি নীরব থাকবে না। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে বাংলাদেশের ‘হীন মানসিকতার’ বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন।

হেমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও বলেন, গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে ভারতের নর্থইস্টকে বিচ্ছিন্ন বা একীভূত করার আহ্বান শোনা যাচ্ছে, যা অবাস্তব কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন মনোভাব অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশকে সহযোগিতার নীতিও পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বক্তব্য, কূটনৈতিক তলব এবং পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে যে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা সামনের দিনগুলোতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন