আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম কোন রাজনৈতিক দলে যাবেন, নাকি তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা চলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে যে, আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ এবং মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ থেকে বিএনপি প্রার্থী হতে পারেন। তবে ইতোমধ্যেই উক্ত আসনগুলোতে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত এনসিপি হতে পারে তাদের গন্তব্যস্থল। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ কয়েকটি শর্ত এবং সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আসিফ-মাহফুজের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, বিএনপি, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ এই তিন দলই তাদের দলে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এদিকে আসিফ ও মাহফুজ ইতোমধ্যে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। এনসিপির একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের যোগদানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে পদ ও সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে শেষ মুহূর্তের সমঝোতা চলছে।
সূত্র অনুযায়ী, মাহফুজ আলমকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করার প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ শক্তিশালী সাংগঠনিক পদ, যেমন সদস্য সচিব বা সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী।
এনসিপির এক শীর্ষ নেতা জানান, আসিফ মাহমুদ দলে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আহ্বায়কের পরে ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিশ্চিত করতে চান। অন্যদিকে মাহফুজ আলম সরাসরি সাংগঠনিক ক্ষমতা নয়, বরং সম্মানজনক ও নীতিনির্ধারণী অবস্থানে থাকতে চান।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক-উস-সালেহীন বলেন, আসিফ ও মাহফুজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও সহযোদ্ধা। তারা দলে যোগ দিলে এনসিপি স্বাগত জানাবে, তবে কোন আসনে নির্বাচন করবেন তা দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এর আগে ছাত্র উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের পর এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, আসিফকে জনতার কাতারে ফিরে আসায় স্বাগত জানানো হবে।
তবে নুরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদেও আসিফের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আলোচ্য। দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে আসিফের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
সব মিলিয়ে, পদবণ্টন ও মর্যাদার বিষয়ে সমঝোতা হলেই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হবে। তখনই জানা যাবে তারা কোন দলের ব্যানারে এবং কোন আসন থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন।




