ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধা থেকে যারা পর্দার নায়ক ও নির্মাতা হয়েছিলেন

বাংলাদেশের বিনোদন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে এমন কিছু নাম আছে, যাদের পরিচয় কেবল নায়ক, অভিনেতা বা নির্মাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা সরাসরি অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। যুদ্ধশেষে ফিরে এসে এই সাহসী মানুষরা স্বাধীন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের শক্ত ভিত গড়ে তুলেছেন।

খসরু: কামরুল আলম খান খসরু ঢাকার গেরিলা বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শেষে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন এবং *ওরা ১১ জন* চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

ফারুক: আকবর হোসেন পাঠান দুলু, যিনি চলচ্চিত্রে নায়ক ফারুক নামে পরিচিত, মুক্তিযুদ্ধের সময় সক্রিয়ভাবে লড়াই করেছিলেন। স্বাধীনতার বছরেই এইচ. আকবর পরিচালিত *জলছবি* চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন।

সোহেল রানা: মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় যোদ্ধা ছিলেনস্বাধীনতার পর তিনি দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন* প্রযোজনা করেন। ১৯৭৩ সালে *মাসুদ রানা* সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

জাফর ইকবাল: ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক জাফর ইকবালও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭০-৭০-এর দশকে নিয়মিত অভিনয়ে যুক্ত হয়ে আশির দশকে এক জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন।

জসীম: অ্যাকশন চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ জসীম কলেজছাত্র থাকাকালীন সেক্টর দুইয়ের অধীনে মেজর এটিএম হায়দারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭২ সালে *দেবর* চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তার চলচ্চিত্রজীবন শুরু হয়।

হুমায়ূন ফরীদি: পড়াশোনা ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন হুমায়ূন ফরীদি। স্বাধীনতার পর মঞ্চ ও নাটকে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত হন।

আসাদুজ্জামান নূর: বাকের ভাইখ্যাত অভিনেতা সেক্টর ছয়ের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই থিয়েটারে যুক্ত নূরের টেলিভিশন যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে।

রাইসুল ইসলাম আসাদ: ঢাকার উত্তর বাহিনীর একজন গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে লড়েন। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তার অভিনয়ে গভীরতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দেয়।

এছাড়াও পপগুরু আজম খান, নির্মাতা নাসিরউদ্দিন ইউসূফ বাচ্চুসহ আরও অনেকে মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে সম্মুখ সমরে লড়েছেন। এই সাহসী মানুষদের অবদান আজও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিতে সমানভাবে স্মরণীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন