ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ প্রার্থী ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে হওয়া গুলি চালানোর ঘটনা কয়েক মাস ধরে পরিকল্পিত ছিল বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। হামলার আগে রাতেই সাভারের আশুলিয়ার একটি রিসোর্টে হামলাকারীরা অবস্থান করেছিল এবং তাদের জন্য মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ওই রাতে দুজন নারীও তাদের সঙ্গে ছিলেন।
পরের দিন সকালে তারা রিসোর্ট থেকে বের হয়ে ঢাকায় আসে এবং জুমার নামাজের পর হাদিকে অনুসরণ করে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দায়ের করেন। মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুটার ফয়সাল করিমের স্ত্রী সামিয়া, তার শ্যালক শিপু এবং রিসোর্টে থাকা বান্ধবী মারিয়া পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। হামলাতে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নান তিন দিনের রিমান্ডে আছেন। এছাড়া সীমান্ত পারাপারে সহায়তার সন্দেহে আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে।
হামলার শিকার ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। বিকাল ৫:৫০ মিনিটে তিনি সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে পৌঁছে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। হাদির সঙ্গে তার ভাই ওমর বিন হাদি এবং বন্ধু আমিনুল হাসান ফয়সালও সিঙ্গাপুরে ছিলেন। বিমানবন্দর সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার ও সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে হত্যাচেষ্টার শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কবিরের হাদির আশপাশে থাকার নির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।




