ঢাকা | সোমবার
২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে সুড়ঙ্গ দিয়ে ফয়সাল পালাল, হাদীকে গুলি করার পর

ওসমান হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও মূল অভিযুক্ত ফয়সাল এখনও ধরা পড়েনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, ফয়সাল ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তের একটি সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার পর ফয়সাল তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মিরপুর এলাকা ত্যাগ করে আশুলিয়া ও গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহে পৌঁছায়।

এরপর তারা হালুয়াঘাটের ধারাবাজার এলাকায় গিয়ে ফয়সালকে একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে সীমান্তের কাছে বুটিয়াপাড়া গ্রামে পৌঁছে দেয়।

স্থানীয়দের মতে, বুটিয়াপাড়ার বাড়িটির পাশ দিয়ে ভারত সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের নিচে পানি চলাচলের জন্য তৈরি সুড়ঙ্গ বা পাইপ রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারি ও মানব পাচারকারীদের গোপন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, স্থানীয় চোরাচালান ও মানব পাচার চক্রের সহায়তায় ফয়সাল ওই সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে ভারতে পালিয়ে গেছে।

এই চক্রে জড়িত সন্দেহে ফিলিপ নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। ফিলিপ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, বালু ব্যবসা ও মানব পাচারে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছেতার দুই আত্মীয়কে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে বিজিবি বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি যে ফয়সাল সত্যিই ভারতে গেছেন কি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তরা বাংলাদেশে লুকিয়ে আছে নাকি সীমান্ত পেরিয়ে গেছে, তা জানার জন্য সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও অভিযান চলছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যার পর এই সীমান্ত এলাকা কার্যত চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবৈধ পারাপার ও মানব পাচারের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা না গেলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন কঠিন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানাচ্ছে, ফিলিপসহ চক্রের মূল হোতাদের ধরতে পারলেই সুড়ঙ্গপথের রহস্য পুরোপুরি উন্মোচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন