সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এবং ইউরোপ-রাশিয়ার বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ববাজারে স্পষ্ট—সোমবার স্বর্ণের দাম সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। একই সময়ে, রূপার দামও ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে (GMT) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১ শতাংশ বেড়ে ৪,৩৪৩.৯৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২১ অক্টোবরের পর থেকে সর্বোচ্চ।
ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দাম আউন্সপ্রতি ১.২ শতাংশ কমে ৪,৩৭৭.৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে শিল্পে চাহিদা বৃদ্ধি, মজুদের হ্রাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধকরণের কারণে, সোমবার স্পট সিলভারের দাম প্রতি আউন্সে ২.৮ শতাংশ বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬৩.৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও গত শুক্রবার সিলভার সর্বোচ্চ দাম ৬৪.৬৫ ডলার ছুঁয়েছিল।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কিছু দুর্বল সূচক এবং ফেড কর্মকর্তাদের নরম মন্তব্যের পর ডিসেম্বরের সুদ কমানোর সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সুদের হার কমার প্রত্যাশা স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে। এখন বাজার যেকোনো মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ সুদ কমলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা বাড়ে।
ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো জানিয়েছেন, “২০২৬ সালে আরও কম সুদের হার প্রত্যাশার কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা মূল্যের বৃদ্ধিতে সমর্থন দিচ্ছে।”




