ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিল্লির অ্যাসেটদের খুঁজে বের করতে হবে: ফুয়াদ

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বারবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—কে নায়ক এবং কে খলনায়ক। সীমান্তের ওপারের শক্তিরা কখনো বাংলাদেশের বন্ধু ছিল না, আজও নয়। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দেশের ভেতরে কারা দিল্লির খলনায়ক অ্যাসেট হিসেবে কাজ করছে—এটি খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, আমরা জানি না সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে কারা বাংলাদেশকে বিক্রি করার জন্য কাজ করছে। তিনি ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ প্রশাসন, টিভি চ্যানেল ও রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্রের ভেতরে দেশের বিরোধী ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত—সেটাও বড় প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে জাতির দৃষ্টি ঘুরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। একসময় যেসব সংস্থা ৪০ মিটার নিচ থেকেও শত্রু শনাক্ত করতে পারত, আজ সেই ‘মাইক্রোস্কোপ’ কোথায়—এটিও তিনি প্রশ্ন করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, একাত্তরের পরও বাংলাদেশে স্বাধীনতাকামী শক্তিকে ধ্বংস করার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র চলেছে। কাউন্টার ক্যু, রাজনৈতিক অনৈক্য সৃষ্টি, সীমান্তে প্রশিক্ষণ দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনি সতর্ক করেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি যদি ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারায় বিভক্ত হয়, তাহলে জাতিকে বড় বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। অতীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি ঠেকানো যায়নি—এই বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের ভেতরে একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, দলকে দলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে এবং মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ভণ্ডুল করার আয়োজন চলছে। দিল্লি আধিপত্যবাদকে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে দেখানোর প্রবণতা কিছু বুদ্ধিজীবী ও তথাকথিত সুশীলদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত অশনি সংকেত। গণঅভ্যুত্থানের তরুণদের এই ইতিহাস বুঝে এগোতে হবে।

ফুয়াদ বলেন, আজাদির লড়াই রক্ষার একমাত্র পথ হলো শত্রু সাপেক্ষ রাজনীতি করা এবং গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইনকিলাবের সেই কণ্ঠ আবারও নতুনভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন