ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিজয় দিবস নিয়ে যে বার্তা দিলেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকের প্রতিধ্বনি হিসেবে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। তাই ১৬ ডিসেম্বরকে জাতি আনন্দ, অহংকার ও বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন হিসেবে স্মরণ করে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার তারেক রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই প্রসঙ্গে পোস্ট করেছেন।

তার পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতি বিজয় অর্জন করে। এ দিনে আমি দেশবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশীদের জানাই শুভেচ্ছা। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভরে উঠুক তাদের জীবন। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি এবং বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মদিবস।”

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, সেই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং সেই সকল মা-বোনদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানান, যারা দেশের মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, নতুন রাষ্ট্রের মর্মমূলে গণতান্ত্রিক নীতিমালা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল। কিন্তু অমানবিক ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই প্রত্যয়কে মাটিচাপা দিয়ে জনগণের ওপর দমনমূলক শাসন চাপিয়ে দেয় এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রহীন দেশে ক্ষমতার একনিষ্ঠ দাপটে জনগণের ওপর নৃশংসতা, ভয় ও নৈরাজ্য নেমে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা নেত্রীকে অন্যায়ভাবে বন্দী করা হয়েছিল এবং ক্ষমতাসীনরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে মিথ্যা মামলায় অসংখ্য মানুষকে কারারুদ্ধ করেছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র রক্ষা করতে মহান বিজয় দিবসের প্রেরণায় জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে। ২৪ জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে তারা পরাজিত হয়। ফলশ্রুতিতে আবার স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন প্রত্যাশা জেগে ওঠে।

শেষে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “নির্বিঘ্নে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে জনকল্যাণমুখী জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করি। মহান বিজয় দিবসে দেশবাসীকে আহ্বান জানাই—বিভাজন ভুলে, হিংসা ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ান। বিজয় দিবসের সকল কর্মসূচীর সফলতা কামনা করছি। আল্লাহ্ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

সংবাদটি শেয়ার করুন