বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘদিন ধরে আলো ছড়িয়ে চলা অভিনেত্রী শাবানা অসামান্য অভিনয় দক্ষতা এবং অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে ‘ঢালিউডের বিউটিকুইন’ খ্যাতি অর্জন করেছেন। আসল নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। তিনি ১৯৫২ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর। প্রথম কাজ করেন এহতেশামের ‘নতুন সুর’ ছবিতে। ১৯৬৭ সালে চিত্রনায়ক নাদিমের বিপরীতে প্রথম নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন, এ সময় প্রযোজক তাঁর নামকরণ করেন ‘শাবানা’ হিসেবে।
শাবানা ১৯৭৪ সালে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন এবং তাঁদের মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা করেন এস এস প্রোডাকশন। ব্যক্তিগত জীবনে তাদের তিন সন্তানের জন্ম হয়েছে। শাবানা ১৯৭৭ সালে সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া পরিচালিত ‘জননী’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ১৯৮০ সালে ‘সখী তুমি কার’ ছবির জন্য প্রথমবার সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।
শাবানা প্রথম প্রযোজনা করেন ১৯৭৯ সালে ‘মাটির ঘর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যা ব্যবসাসফল হয়। ১৯৮৮ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় ‘বিরোধ’ ছবিতে অভিনয় করেন, যা হিন্দিতে ‘শত্রু’ নামে ডাবিং করা হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি প্রখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের সঙ্গে ঢাকায় সাক্ষাৎ করেন।
ঢাকাই ছবিতে শাবানার জন্য একটি প্রবাদ প্রচলিত, ‘সেলাই মেশিন’ মানেই শাবানা। সাধারণ বধূ বা মায়ের চরিত্রে তিনি অতুলনীয় অভিনয় করেছেন। তাঁর শেষ ছবি ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। চলচ্চিত্র জীবনে মোট ২৯৯টি ছবিতে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে আলমগীরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ১৩০টি ছবিতে।
শাবানা সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ১১ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং ২০১৭ সালে তাঁকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৯৯৯ সালে অভিনয় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন, তবে মাঝে-মধ্যে দেশে ফিরে আসতেন। সর্বশেষ ২০২০ সালে ঢাকায় তোলা ছবি ছিল তাঁর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো শেষ মুহূর্ত।




