আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি, তবে এই সময়কাল কখন এবং কেন এভাবে পরিচিত তা অনেকেরই অজানা। নবী ইসা (আ.)-কে আকাশে উত্তীর্ণ করার পর থেকে নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর আগমনের আগ পর্যন্ত সময়কেই সাধারণত আইয়ামে জাহেলিয়াত বলা হয়।
সেই সময়ে মানুষ আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল এবং একত্ববাদের চেতনাই বিলীন হয়ে গিয়েছিল। মানুষ অজীব বস্তুকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছিল, এবং মূর্তিপূজা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে গ্রিক সভ্যতা নতুন শাসনব্যবস্থা উদ্ভাবন করে মানুষের মনে সৃষ্টিকর্তার অস্বীকৃতির বীজ বুনেছিল, আর রোম ও পারস্য বিশ্বকে অশান্তির আবহে আবৃত করেছিল। নারীর অধিকারও তখন যথেষ্ট সীমিত ছিল।
ঠিক এই সংকটময় সময়ে আরবের মরুভূমিতে ইবরাহিম (আ.)-এর প্রার্থনার আলোক ঝলক মানুষের জন্য আলো বয়ে আনে। নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে পৃথিবী নতুন আলোর মধ্যে প্রবেশ করে। তিনি কেবল নবী ও রাসুলই ছিলেন না, বরং মানবজাতির জন্য করুণার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হন। তার আগমনে মানবতা পুনরুজ্জীবিত হয়, বঞ্চিতরা অধিকার ফিরে পায়, আর শোষিতরা মুক্তি পায়।
নবী মুহাম্মাদ (সা.) মক্কায় ১৩ বছর দাওয়াত প্রদান করার পর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় ইসলামের আলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ সাম্যের বাণী গ্রহণ করে জান্নাতের পথ বেছে নেয়।




