অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের বন্ডি বিচে ইহুদিদের একটি উৎসবের সময় ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় মানবতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন মুসলিম যুবক আহমেদ আল আহমেদ। নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেললেও তিনি বন্দুকধারীর রাইফেল ছিনিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেন, যার ফলে আততায়ীকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়। এই সময় আহমেদকে অন্য বন্দুকধারীর গুলিতে গুরুতর আহত হতে হয়।
৪৩ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের সাদারল্যান্ড শহরে একটি ফলের দোকান পরিচালনা করা আহমেদের বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। গুলিবিদ্ধ কাঁধ ও হাতের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
এই হামলায় কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং এটি অস্ট্রেলিয়ার গত তিন দশকে সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আহমেদের সাহসিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে, যেখানে বহু মানুষ মন্তব্য করেছেন যে এটি প্রমাণ করে সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ও নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষা করা ধর্ম নিরপেক্ষ, বরং মানবতার শিক্ষা।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আহমেদকে একজন সত্যিকারের নায়ক হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রিমিয়ার মিন্স বলেন, “তার তাৎক্ষণিক সাহসিকতার কারণে বহু মানুষ আজ বেঁচে আছেন।” একই সঙ্গে হামলাকারীর হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার মুহূর্তটি অসংখ্য প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করেছে।




