ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবিধান অনুযায়ী কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি

সাতষট্টি বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী অবসরে যাচ্ছেন দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদআগামী ২৭ ডিসেম্বর তার কর্মজীবনের শেষ দিন হলেও ওই দিন অবকাশকালীন ছুটি থাকায় তার বিচারিক দায়িত্ব কার্যত শেষ হচ্ছে ১৮ ডিসেম্বরএরই মধ্যে গত ১৪ ডিসেম্বর তিনি বিদায়ী অভিভাষণ দিয়েছেন। এ অবস্থায় দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি কে হচ্ছেনতা নিয়ে বিচারাঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা

সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। সাধারণ রীতি অনুযায়ী আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারকদের মধ্য থেকেই এ নিয়োগ দেওয়া হয়। যদিও বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত অবস্থায় নিয়োগ পেয়ে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

বর্তমানে আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো বিচারক ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে পারেন। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার কমিশন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।

এই বিবেচনায় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামকে নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তিনি ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি হন এবং তার স্বাভাবিক অবসর ১৪ জুলাই ২০২৬। প্রধান বিচারপতি হলে তার দায়িত্বকাল হবে প্রায় সাড়ে ছয় মাস। এর আগে তিনি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন।

আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এবং তার অবসর ২০২৮ সালে। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকায় তাকেও সম্ভাব্য প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নামও আলোচনায় থাকলেও জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে প্রথম দুই বিচারপতিই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এই নিয়োগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ নতুন প্রধান বিচারপতির মেয়াদকালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিই পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে পারেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক এখতিয়ার থাকলেও প্রচলিত রীতি ও জ্যেষ্ঠতা বিবেচনায় বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীএই দুইজনের একজনই হতে পারেন দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন