ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের আহ্বান চীনের

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে কত সময় লাগবে তা তিনি নির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না এবং কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, এটি মূলত বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইয়াও ওয়েন আশা প্রকাশ করেন, যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, কারণ রোহিঙ্গারা ইতিমধ্যেই আট বছর ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য ২.৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হতে হবে। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য বিভিন্ন শর্ত ও নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এজন্য চীন, আন্তর্জাতিক সংস্থা, প্রতিবেশী দেশ, আঞ্চলিক সংগঠন ও পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। রাষ্ট্রদূতের মতে, এটি একটি যৌথ উদ্যোগ যা সব স্টেকহোল্ডারের সমন্বয় প্রয়োজন।

ইয়াও ওয়েন আরও জানান, প্রত্যাবাসনই চূড়ান্ত সমাধান এবং এটি শুধু চীনের নয়, বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেরও অভিন্ন অবস্থান। তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকেও অগ্রগতি হচ্ছে। বিষয়টি শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। এজন্য একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামো গঠন করা হয়েছে, যেখানে সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রত্যাবাসনের প্রয়োজন সবার জন্যই স্পষ্ট, তবে বাস্তবতার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমানে আরাকান রাজ্যের স্থল পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাবাসন কার্যকর করা কঠিন। তাই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য আরও প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ইউএন এজেন্সি ও দাতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে সকল স্টেকহোল্ডারের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন, এবং এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন