ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন আজ

গুমনির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেকবর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ (রোববার) হওয়ার কথাআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলআদেশ দেবেন

মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন তিন সেনা কর্মকর্তা। গত ৯ নভেম্বর তাদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু উপস্থিত আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন এবং চারটি গ্রাউন্ড উল্লেখ করেন। বেআইনি আটক, অপহরণ ও নির্যাতন এই তিনটি গ্রাউন্ডের ওপর ট্রাইব্যুনাল বিশেষভাবে নজর দেয়। এছাড়া অব্যাহতির জন্য পলাতক আসামিদের হয়ে আবেদন করেন আইনজীবী হাসান ইমাম ও আমির হোসেন। পরে আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজকের দিন ধার্য করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও শাইখ মাহদী। গ্রেফতারকৃত তিন সেনা কর্মকর্তা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।

এর আগে, ৭ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগ আনার তথ্য জানান।

পলাতক আসামিদের জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়, যদিও শেখ হাসিনার আইনজীবী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৩ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন এবং মো. আমির হোসেনকে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিন গ্রেফতারকৃত সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন