গতকাল ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলা রাজনীতির নিরাপত্তা ইস্যুকে নতুন করে সামনে এনেছে। আবার গতকাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা করেছেন। তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনীতিবীদদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে আরও গুরুতপূর্ণ করে তুলেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না বিএনপি। তার ভাষায়, ‘১০ তারিখ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। হামলার ধরন দেখে স্পষ্ট, এটি পেশাদার শ্যুটারের কাজ।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও তা এমন পর্যায়ে যাবে না, যাতে ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ভিন্নমত থাকলেও ঐক্যের প্রশ্নে কোনো আপস হবে না বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ও তার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বিএনপি সরকারকে এ বিষয়ে স্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছে এবং দলীয়ভাবেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, কোনো আশঙ্কাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও জনগণের সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে এই ধরনের সহিংসতা রোধ করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেষদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই-২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাই বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি। পতিত ফ্যাসিবাদকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, হামলা ও সহিংসতার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না; বরং জাতীয় ঐক্যের শক্তিতেই এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।




