ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপকূলের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সৈয়দা রিজওয়ানার দূরদর্শী উদ্যোগ

উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় যে সমস্যা গুলো দেখা দিচ্ছে তা দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে, এবং এসব মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয় সরণিতে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী জাতীয় উপকূল সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, প্রতিদিন নতুন ধরনের দুর্যোগ তৈরি হচ্ছে, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে এবং দারিদ্র্য ও পানি সংকট বাড়ছে। এর প্রভাব জলবায়ু উদ্বাস্তু, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং কার্বন শোষণের হ্রাসের মতো সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, উপকূলের অনেক জায়গায় পূর্বের পরিকল্পনা বাতিল হলেও ক্ষয়ক্ষতি থেকে গেছে। চিংড়িঘের ভাঙতে পুনরায় কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে, এবং এই ক্ষতির দায় সরকারকেই নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের রক্ষা না করলে নীতিগত অবস্থান অর্থহীন হয়ে যাবে। অনেক ক্ষেত্রেই নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিষয়গুলো অকারণে বিতর্কিত করা হচ্ছে।”

সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, স্থানীয় নৌযান চলাচলে বাধা এবং জীবিকার ওপর প্রভাব তুলে ধরেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যারা এসব খাতের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা জরুরি। এই লক্ষ্যেই কোস্ট, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থা বিকল্প জীবিকার উদ্যোগ নিয়েছে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহায়তাও বিবেচনায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল জনগোষ্ঠী বসবাস করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাস্তব রূপ নিলে এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্টে একটি শক্তিশালী ও আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য। পানি সম্পদ, নদী রক্ষা, পরিবহন ও কৃষিসহ সব খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় উপকূল সম্মেলনের আহ্বায়ক গওহার নঈম ওয়ারা। সঞ্চালনা করেন প্রাণের প্রধান নির্বাহী নুরুল আলম মাসুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির, ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ডিপাক এলমার এবং কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী প্রধান রেজাউল করিম চৌধুরী।

উপকূলীয় ১৯ জেলার কৃষি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, জেলে সম্প্রদায়, অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা তিন শতাধিক প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন