ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদীর ওপর হামলা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত: মির্জা আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ওসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এই হামলার অভিযোগ তুলেছেন এবং বলেছেন, “ওসমান আমার সন্তান সমতুল্য। হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এটি শুধু ব্যক্তিগত আঘাত নয়, গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এটি করেছে তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।”

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা আব্বাস এসব কথা বলেন। সমাবেশে হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সমাবেশ করা হয়।

মির্জা আব্বাস জানান, “দুপুর দুইটায় হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, আধাঘণ্টার মধ্যেই কিছু মানুষ ফেসবুকে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য পোস্ট করতে শুরু করে। হাসপাতালে গিয়ে আমি দেখলাম সবই পরিকল্পিত। আমি ঢাকার ছেলে। দীর্ঘ ৫০ বছর ঢাকায় রাজনীতি করি। আমি শান্ত ছিলাম। আমার নির্দেশ থাকলে তোমাদের তুলোধুনো করতো। হাসপাতালের ঘটনায় যারা এগুলো করেছে, তারা হাদীর সমর্থক নয়, অন্য একটি দলের সদস্য। আমরা শান্ত না থাকলে হাদীর চিকিৎসা ব্যাহত হত। তাদের উদ্দেশ্য হাদীর চিকিৎসা ব্যাহত করা ও তাকে মারাও।”

তিনি আরও বলেন, “একটি দলের ষড়যন্ত্র আমরা ৭১, ৮৬সহ বহুবার দেখেছি। এরা স্থির রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না, তাই রাষ্ট্রকে সবসময় অস্থিতিশীল রাখতে চায়। হাদী যেই হোক, তার মৃত্যু কামনা করি না। কিন্তু হামলার পর ফেসবুকে এক-দেড়শ মানুষ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তারা সবাই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের। আমরা চাই হামলাকারী গ্রেপ্তার হোক এবং সেই দলের মুখোশ উন্মোচিত হোক।”

মির্জা আব্বাস হাদীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে বলেন, “হাদী আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তিনি প্রতিযোগী। তিনি রাজপথের সাহসী সৈনিক। আমি আশা করি তাকে নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয়ভাবে দেখতে পাব।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়াও বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, শেখ রবিউল আলম, হাবিবুর রশিদ হাবিব, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল কবির পল।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর ফকিরাপুল মোড় পার হয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন