দেশজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনুষ্ঠিত ডিজিটাল লটারিতে মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ৪৯৯ শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছে। সরকারি ৬৮৯টি প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৭ হাজার ৫২১ জন এবং ৩ হাজার ৩৬০টি বেসরকারি স্কুলে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ বছরের স্কুল ভর্তির ডিজিটাল লটারি কার্যক্রম শুরু হয়। লটারি সম্পন্ন হওয়ার পর বেলা পৌনে ৩টায় বিদ্যালয়ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার উপপরিচালক ইউনুস ফারুকী নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ‘এখন দুটি অপেক্ষমাণ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।’
লটারির ভর্তির ফল নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (https://gsa.teletalk.com.bd) এবং যেকোনো টেলিটক মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়া যাবে বলেও তুলে ধরেন এই কর্মকর্তা।
৬৮৯টি সরকারি স্কুলে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৯৬টি আসনে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল, ১ লাখ ৭ হাজার ৫২১ জন শিক্ষার্থীকে লটারিতে নির্বাচনের পর এ স্কুলগুলোর ১৪ হাজার ৭৫টি আসন ফাঁকা থাকছে।
মহানগর এবং জেলা ও উপজেলা সদরের ৩ হাজার ৩৬০টি বেসরকারি স্কুলের ১০ লাখ ৭২ হাজার ৯১৭টি আসনে ভর্তির আবেদন করেছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৯৬ জন শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৮ জনকে নির্বাচনের পর ৮ লাখ ৪৩ হাজার ১৬০টি আসন খালি আছে।
ভর্তি শুরু ১৭ ডিসেম্বর
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৭–২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। ইউনুস ফারুকী জানান, আগের মতো এবারও দুই দফায় ওয়েটিং লিস্ট থেকে ভর্তি করা হবে—
২২–২৪ ডিসেম্বর প্রথম তালিকা
২৭–৩০ ডিসেম্বর দ্বিতীয় তালিকা
স্কুলে ভর্তির কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে আসেননি শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, যদিও মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছিল তিনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
সকালে সরকারি স্কুলে ভর্তির ডিজিটাল লটারি প্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কলেজ শাখার অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান মিয়া ও উন্নয়ন শাখার অতিরিক্ত সচিব বেগম বদরুন নাহার। পরে বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ডিজিটাল লটারি প্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান।
ডিজিটাল লটারি প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিফোন অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিকেল পৌনে ৩টায় ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব ইউনুস ফারুকীর হাতে ফলাফল হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাউশির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক বিএম আব্দুল হান্নান, মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।




