ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘কিছু বিষয় পরবর্তী সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত’

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার জটিলতা ও গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন—সংশোধনীর কিছু দিক বর্তমান আপিল বিভাগেই নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন, আর কিছু বিষয় ভবিষ্যৎ সংসদের বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু হলে তিনি এ মত জানান।

শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, জামায়াতের আইনজীবীরা মত দিয়েছেন—পঞ্চদশ সংশোধনীর শুনানি এখনই শেষ না করে এটি স্থগিত রেখে পরবর্তী সংসদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া উচিত। আদালত জানতে চান এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান কী।

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তারা চান আপিল বিভাগ এই শুনানি সম্পন্ন করুক এবং এখান থেকে একটি চূড়ান্ত রায় বের হয়ে আসুক।

প্রধান বিচারপতি তখন মন্তব্য করেন, আগের আপিল বিভাগের মতো এমন কোনো রায় আদালত দিতে চায় না, যা নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, নতুন আপিল বিভাগ গঠনের পর সেখানে শুনানি হলে কেমন হয়—অথবা দীর্ঘ মুলতবি দিলে সব পক্ষই কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। তবে পরে আবার শুনানি শুরুর সময় রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তারা আজই শুনানি শেষ করতে চান।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনী আইনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে গত বছর হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের হয়। সুজন সম্পাদকসহ পাঁচজন একটি রিট করেন এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকেও অসাংবিধানিক বলে বাতিল করা হয়। অন্যদিকে গণভোট সংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। তবে পুরো সংশোধনী বাতিল না করে অন্যান্য বিধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ভবিষ্যৎ সংসদের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মোট তিনটি আপিল করা হয়—সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি, মোফাজ্জল হোসেন একটি এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরেকটি। এসব আপিলের ওপর ৩ ডিসেম্বর শুনানি শুরু হয় এবং পরবর্তী কয়েক দিনে ৪, ৭, ৮ ও ১০ ডিসেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।

গতকাল শুনানিতে শিশির মনির বলেন, যদি পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে আবার বাকশালের মতো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে এবং সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকে। তার মতে, বর্তমান কাঠামো অপরিবর্তিত রাখলে বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতে বিচার ও সংস্কারের সুযোগ থাকে, এবং গণভোটের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে—সেই পরিসরটিই খোলা থাকা উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন