রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা–মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশার স্বামী রবিউল ইসলাম চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, চুরি করতে গিয়ে গৃহকর্ত্রীর হাতে ধরা পড়ায় আতঙ্কে তাঁর স্ত্রী আয়েশা দু’জনকেই হত্যা করেন।
আজ বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটির কয়ারচর গ্রাম থেকে আয়েশা ও তার স্বামী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ এই অভিযান চালায়, যার নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযানে নয়জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
গ্রেপ্তারের পর রবিউল সাংবাদিকদের বলেন, “সে ভাবছিল কিছু জিনিস চুরি করে আমাকে দিবে। গৃহকর্ত্রী পেছন থেকে ধরার পরই সে চাকু দিয়ে কোপাতে থাকে। যতক্ষণ ধরে রাখছে, ততক্ষণ কোপ দিতেছে। এরপর তার মেয়ে এলে তাকেও হত্যা করেছে।”
পুলিশ জানায়, ঘটনার চার দিন আগে আয়েশা শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় গৃহকর্মীর কাজ নেন এবং নিজেকে ‘আয়েশা’ নামে পরিচয় দেন। সোমবার সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরে বাড়িতে ঢোকার পর দেড় ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে নাফিসা স্কুল–ড্রেস ও মাস্ক পরে ভবন থেকে বের হয়। এই দৃশ্য সিসিটিভিতে ধরা পড়ে।
পুলিশের ধারণা, গৃহকর্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার পর ঘটনাটি দেখে ফেলায় নাফিসাকেও একই অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। মাকে মৃত অবস্থায় দেখে নাফিসা ইন্টারকমে ফোন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ওই সময় তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। ধস্তাধস্তির সময় ইন্টারকমের লাইন খোলা যায়। বাথরুম তল্লাশিতে একটি সুইচ–গিয়ার ছুরি ও একটি ফল কাটার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এই ছুরিগুলোই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘটনার সময় নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম (উত্তরার সানবীমস স্কুলের শিক্ষক) বাসায় ছিলেন না। তিনি সকাল ৭টার দিকে কাজে যান এবং সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় পান। এরপর তিনি গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত সংক্রান্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনের দারোয়ান মালেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ জানতে আয়েশাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানায় কর্মর্তারা।




