জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা সংঘটিত করার পিছনে মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়—এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তার দাবি, জয়ের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব থাকুক বা না থাকুক, তিনি রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সে অবস্থান থেকেই তিনি ইন্টারনেট বন্ধে ভূমিকা রাখেন।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ইন্টারনেট শাটডাউন, হত্যাযজ্ঞে সহায়তা এবং মরদেহ ও আলামত গুম সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জয়ের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনেই হবে এবং তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত ও অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আগেই সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং শিল্পগোষ্ঠী প্রধান সালমান এফ রহমান বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। বুধবার তারা যুক্তরাজ্যের দুই আইনজীবী নিয়োগের আবেদন পেশ করেন। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, বিদেশি আইনজীবী নিযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে, তবে তা আইনি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে।
অন্যদিকে, আরেক মামলায় হাজির না হওয়ায় সজিব ওয়াজেদ জয়কে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তাজুল ইসলাম জানান, জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের মামলায় বুধবার আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৭ ডিসেম্বর।
এদিন ইন্টারনেট শাটডাউনসহ হত্যাযজ্ঞে সহায়তা এবং আলামত গুমের মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়। তবে অনুপস্থিত থাকার কারণে হাসিনাপুত্র জয়কে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বুধবার আরও দুইজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে এ মামলার মোট সাক্ষীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে।




