দেশের শাসনামলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির’ তাদের মতে প্রায় ১৫ বছরে তাদের ২৫৫ নেতা‑কর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। সংগঠন আরও বলেছে, এই সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩১২ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছিল; মোট মামলা‑সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৩৫। অপহরণের পর গ্রেফতার হয়েছিলেন ৬৬ হাজার ২৪০ জন, এর মধ্যে রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৯ হাজার ৭২২ জন, এবং মোট রিমান্ড ছিল ২৯ হাজার ৯৭১ দিন।
ছাত্রশিবির জানায়, এই সময়কালে ৩১ হাজার ৭১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, ৩২৪ জন পঙ্গু হয়েছেন, এবং ১০৩ জন নিহত হয়েছেন। গুম হয়েছেন ২৫৫ জন, যাদের মধ্যে ৭ জন এখনো ফিরে আসেনি। গুম হওয়া ৭ জনের নাম দেওয়া হয়েছে: মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, মুহাম্মদ মুকাদ্দাস আলী, হাফেজ জাকির হোসাইন, জয়নুল আবেদীন, মো. কামারুজ্জামান, মো. রেজওয়ান এবং শফিকুল ইসলাম।
সংগঠন দাবি করেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত — অর্থাৎ আওয়ামী লীগের শাসনামলে — তাদের ওপর একটি পরিকল্পিত দমন শুরু হয়েছিল। ছাত্রশিবিরের নেতারা বলছেন, শুধু প্রকাশ্যে হত্যাই নয়; গুম, পঙ্গু করা, গ্রেফতার, রিমান্ডে নির্যাতন কিংবা বাসা-ঘর ভাঙচুর এমনকি ছাত্রদের শিবির সদস্য ভবার অভিযোগেই অন্যায়ভাবে জামিনী হাতিয়ে নেওয়ার মতো সব ধরনের অত্যাচার ছিল নিয়মিত।
তারা আরও জানায়, প্রতিটি স্তরের সদস্য-সমর্থক — অফিস, মেস, ব্যক্তিগত সম্পত্তি — সবকিছুই ধ্বংস করা হয়। বহু নেতা রিমান্ডে রাখা, নির্যাতন করা, আদালতে চালান দেওয়ার সময় চিকিৎসা ও ন্যায্য অধিকার না দিয়ে নির্যাতন বন্ধ না করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এসব সত্বেও, ছাত্রশিবির বলছে, তারা আত্মপরিচয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, সামাজিক ও ধর্মীয় শিক্ষা ও তরুণ সমাজের মর্যাদা নিয়ে কাজ চালিয়ে গিয়েছে। শিবির দাবি করেছে, এই নির্যাতন ও দমন-পরিকল্পনার মধ্যেও তারা হাল ছাড়েনি এবং ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবে




