ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব অবিক্রিত মোবাইল তালিকাভুক্তের নির্দেশ

দেশের বাজারে থাকা সব অবিক্রিত মোবাইল হ্যান্ডসেটকে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়মিতকরণ (তালিকাভুক্তি) করার বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিটিআরসি কার্যালয়ে মোবাইল আমদানি ও ভেন্ডর লাইসেন্স তালিকাভুক্তিকরণ নিয়ে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিরা একাধিক বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

সহজ হচ্ছে ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট

বিটিআরসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট এখন আগের চেয়ে আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
কম সংখ্যক কাগজপত্র জমা দিলেই সনদ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ক্লোন, কপি, ব্যবহৃত বা রিফারবিশড হ্যান্ডসেট আমদানি ঠেকাতে ম্যনুফ্যাকচারার ছাড়া অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটরের প্রত্যয়নপত্র দিয়েও আমদানির অনুমোদন মিলবে।

ব্যবসায়ীদের লিখিত প্রস্তাব চাইল বিটিআরসি

অবৈধ, ক্লোন বা রিফারবিশড মোবাইল প্রতিরোধে আমদানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাব চেয়েছে সংস্থাটি। তাদের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা আনার জন্য ব্যবসায়ীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবিক্রিত ফোন তালিকাভুক্তির সুযোগ

বাজারে থাকা সব অবিক্রিত হ্যান্ডসেটকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই তালিকাভুক্ত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের অনুরোধ বিবেচনায় রেখে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দিলে সেগুলো নিয়মিতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিটিআরসি আরও জানায়, বেতার যন্ত্রপাতি ব্যবহার, বাজারজাতকরণ ও তালিকা গ্রহণের নির্দেশিকা–২০২৪ অনুযায়ী বৈধভাবে আমদানি করা ব্যবসায়ীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাজারে অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট প্রায় ৫০ লাখ

বিটিআরসি ও মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ-এর হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশের বাজারে প্রায় ৫০ লাখ অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন রয়েছে।

অবৈধ মোবাইল নিয়ন্ত্রণে আসছে NEIR

অবৈধ মোবাইল আমদানি বন্ধ করতে বিটিআরসি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রি (NEIR) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, এনইআইআর চালু হলে নকল বা অবৈধভাবে আনা মোবাইল পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় মোবাইল শিল্প উল্লেখযোগ্যভাবে সুরক্ষিত হবে।

ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও এমআইওবির বক্তব্য

তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এনইআইআর চালুর সম্ভাব্য ক্ষতি উল্লেখ করে ৭ ডিসেম্বর বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

অন্যদিকে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) পরদিন (৮ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, দেশে ১৮টি উৎপাদন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা করছে, এবং এনইআইআর নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন