যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে এমন সময়ে ঘোষণা এলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া চীনে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ রপ্তানি করতে পারবে। দুই দেশই এআই প্রযুক্তির আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে সমালোচনা শুরু হয়েছে মার্কিন রাজনীতিতে।
ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, তিনি শি জিনপিংকে জানিয়েছেন যে, এনভিডিয়াকে তাদের নতুন এইচ২০০ চিপ রপ্তানি করার অনুমতি দেওয়া হবে, শক্তিশালী জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার শর্তে। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন যে, চীনে বিক্রিত চিপ থেকে ২৫% অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে প্রদান করা হবে। তবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কেমন হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং চীনের সামরিক ক্ষেত্রে এ আই চিপ ব্যবহারের সম্ভাবনার কারণে এনভিডিয়ার চিপ রপ্তানি, বাইডেন প্রশাসনের সময় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল । বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির ওপর চীনের প্রভাব ঠেকাতে, এনভিডিয়াসহ অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য কঠোর রপ্তানি বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। ট্রাম্প একাধিকবার এই বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করে বলছেন, তাদের নীতি (বাইডেন প্রশাসনের) উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানে বাধা সৃষ্টি করেছে।
এনভিডিয়ার পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তারা মনে করে এটি মার্কিন চিপ শিল্পে নতুন চাকরি এবং প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে। উল্লেখ, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং হোয়াইট হাউসে বাইডেন প্রশাসনের এই নীতি পরিবর্তন করতে চাপ দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সন্দেহপ্রকাশ করেছেন অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতা ও ডেমোক্র্যাট নেতারা। তারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে মার্কিন নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেছেন, এই পদক্ষেপ চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি শ্লথ করতে পারে।




